সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)
প্রধান সংবাদ

সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচন শেষ হয়েছে এক মাস আগে। চৌদ্দটি ফ্ল্যাটের এই ভোটে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ার চৌধুরী (৬২), এক ভোটের ব্যবধানে। পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান (৫২) এখন সমিতির কোষাধ্যক্ষ। নির্বাচনের পুরো ঘটনাক্রম পর্যালোচনা করেছে দৈনিক সুখনীড় সমাচার।
ঘটনার শুরু বার্ষিক সাধারণ সভা থেকে। ওই সভায় ডিজেলের একটি বিল উপস্থাপন করা হয়, যার হিসাব পরে আর কেউ মেলাতে পারেননি। একই সময়ে সভাপতি ভবনে সাতটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসান। ফুটেজ দেখার মনিটর রাখা হয় তার নিজের ফ্ল্যাটে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনসিল পেয়েছেন কোষাধ্যক্ষ, বাক্স রয়ে গেছে সভাপতির আলমারিতে
সুখনীড় টাওয়ারের নতুন কোষাধ্যক্ষ সমিতির সিল বুঝে পেলেও সিলের বাক্সটি পাননি বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে দ্বিতীয় তলার নিজ ফ্ল্যাটের সামনে আব্দুল মান্নান (৫২) এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাক্সটি সভাপতি আলমারিতে রেখে দিয়েছেন। সিলই আসল জিনিস, বাক্স দিয়ে কী হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলমারিটি সভাপতির শোবার ঘরে।
দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি · শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
২০:০০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তার হাতে সমিতির সিল হস্তান্তর করা হয়।
বাতিল ব্যালটটি আলাদা করে রেখেছেন ভবন ব্যবস্থাপক
সুখনীড় টাওয়ারের নির্বাচনে বাতিল হওয়া একমাত্র ব্যালটটি ভবন ব্যবস্থাপক আলাদা করে রেখে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে চতুর্থ তলার বাসিন্দা করিম বক্সীর (৫৫) সঙ্গে কথা হয়। ব্যালটটি তার।
তিনি বলেন, দুই পক্ষই তাকে চেয়েছিল এবং তিনি কাউকেই না করেননি।
কাগজটি কেন আলাদা রাখা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জিজ্ঞাসা করেননি বলে জানান।
বাতিল ব্যালট পুনর্বিবেচনার কোনো আবেদন জমা পড়েনি।
রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
২০:০০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে বাসিন্দাদের জন্য আয়োজিত ডিজিটাল সাক্ষরতা বিষয়ক একটি ক্লাসে তথ্য যাচাইয়ের বদলে একসঙ্গে সব নম্বরে বার্তা পাঠানোর পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। পদ্ধতিটি শিখিয়েছেন ক্লাসেরই একজন অংশগ্রহণকারী।
সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ এক টেবিলে, চা পরিবেশনের ক্রম নির্ধারিত হয়নি
সুখনীড় টাওয়ারে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সমিতির সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ একই টেবিলে বসছেন। তবে কাকে আগে চা দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুধবার দুপুরে ট্রে হাতে করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় গৃহকর্মী রহিমা বেগম (৪৫) এ কথা জানান।
তিনি বলেন, তিনি ট্রেটি টেবিলের মাঝখানে রেখে চলে আসেন।
বিষয়টি নিয়ে সভায় কিছু ওঠেনি।
দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি · বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
২১:৩০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের পরদিন বিজয় উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা মিষ্টির সংখ্যার সঙ্গে ভবনের ফ্ল্যাট সংখ্যার হিসাব মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভোট গোপন, তবে বিজয়ীকেই দিয়েছেন বলে জানালেন ফ্ল্যাট মালিক
সুখনীড় টাওয়ারের নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন পঞ্চম তলার বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৪৮)। তবে বিজয়ী প্রার্থীকেই তিনি ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ভবনের পার্কিং এলাকায় তিনি এ কথা বলেন। ওই সময় তিনি নিজের রাখা দুটি প্লাস্টিক চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি বলেন, ব্যালট গোপন, তাই তিনি বলবেন না। তবে যিনি জিতেছেন তাকেই দিয়েছেন, এইটুকু বলা যায় বলে তিনি জানান।
ভবনে ফ্ল্যাট চৌদ্দটি এবং পার্কিং এলাকায় ব্যক্তিগত চেয়ার দুটি। দুটিই একই ফ্ল্যাটের।
এ বিষয়ে সমিতির কোনো অনুমোদন আছে কি না তা জানা যায়নি।
দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি · মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
২০:০০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাত-ছয় ভোটে বর্তমান সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। একটি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
ভোটের সকালে লিফট বন্ধ, কেন্দ্র সপ্তম তলায়
সুখনীড় টাওয়ারের নির্বাচনের দিন সকালে ভবনের লিফট বন্ধ ছিল। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল সপ্তম তলায়।
সোমবার সকাল থেকে বাসিন্দাদের সিঁড়ি ব্যবহার করে ভোট দিতে যেতে হয়। লিফটটি আগের রাত থেকে বন্ধ ছিল বলে ভবন সূত্রে জানা গেছে।
তৃতীয় তলার বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, ভোটকেন্দ্র সপ্তম তলায়, লিফট নষ্ট। আজকে গণতন্ত্র মানে কার্ডিও বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোট গণনা শেষ হওয়ার সতেরো মিনিট পর লিফটটি সচল হয় বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
লিফট বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে সমিতির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। মেরামতের কোনো বিল জমা পড়েনি।
দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি · সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
২০:০০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে বৃষ্টির রাতে খাবার পৌঁছাতে নয় মিনিট দেরি হওয়ায় এক ডেলিভারি কর্মীকে সর্বনিম্ন রেটিং দিয়েছেন ভবনের এক ফ্ল্যাট মালিক। ওই কর্মীকে কোনো বকশিশও দেওয়া হয়নি।
ব্যালটে প্রার্থী দুজন, ছাদে একজন খুঁজছিলেন তৃতীয় নাম
সুখনীড় টাওয়ারের নির্বাচনী ব্যালটে দুজন প্রার্থীর নাম থাকলেও ভবনের এক বাসিন্দা তৃতীয় একটি নাম খুঁজছিলেন বলে জানা গেছে।
রোববার সকালে ভবনের ছাদে পানির ট্যাংকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে দেখা যায়। তিনি ষষ্ঠ তলার বাসিন্দা শাহেদ (৩৪)।
তিনি বলেন, ব্যালটে দুইটা নাম ছিল, তিনি খুঁজছিলেন মতিনের নাম। পাখিদের কেউ মনোনয়ন দেয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মতিন নামে ভবনে কোনো ভোটার নেই। এটি একটি চড়ুই পাখির নাম বলে ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
পাখিটির বাসা তিন সপ্তাহ আগে ছাদ থেকে খালি হয়ে গেছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জমা পড়েনি।
রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক · রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১২:৩০
গেটে দুই কাপ চা, নিরাপত্তাকর্মী বললেন এটাই নিরপেক্ষতা
নির্বাচনের আগের রাতে সুখনীড় টাওয়ারের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসা থেকে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর জন্য আলাদাভাবে চা পাঠানো হয়েছে।
শনিবার রাতে গেটে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দুই কাপ চা-ই গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ভোটের আগের রাতে দুই স্যারই তাকে চা খাইয়েছেন এবং তিনি দুই কাপই খেয়েছেন। গণতন্ত্রে এটিকে নিরপেক্ষতা বলা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চা কোন ফ্ল্যাট থেকে পাঠানো হয়েছে তা জানতে দুই পক্ষই আলাদাভাবে খোঁজ নিয়েছে বলে ভবন সূত্রে জানা গেছে।
দুই কাপের মধ্যে ব্যবধান ছিল ছাব্বিশ মিনিট। নিরাপত্তাকর্মী দুটি কাপই ফেরত দিয়েছেন।
রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক · শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ২২:৩০
২১:৩০ · প্রতিবেদন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের আগের রাতে এক প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রার্থীর দাবি, মিষ্টির সঙ্গে তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সেবার সুযোগ
আমি সভাপতি হতে চাই নাই। এই কথাটা কেউ বিশ্বাস করে না, তাই বারবার বলতে হয়।
নির্বাচনের আগের রাতে আমার ড্রইংরুমে যারা বসেছিলেন, তারা জানেন আমি কী বলেছিলাম। বলেছিলাম, নতুন কেউ আসুক। তরুণ কেউ। আমি ক্লান্ত। তখন মান্নান সাহেব বললেন, স্যার, আপনি ছাড়া বিল্ডিং চলবে না। কথাটা তার, আমার না। আমি শুধু শুনেছি।
ভোট হয়েছে সুষ্ঠু পরিবেশে। কেন্দ্র ছিল আমার বসার ঘর, কারণ নিচতলায় আলো কম এবং সিসিটিভি নাই। স্বচ্ছতার জন্যই এই ব্যবস্থা। যারা বলছেন ভোটকেন্দ্র সভাপতির বাসায় হওয়া উচিত না, তাদের বলি: তাহলে কার বাসায় হবে? যার সিসিটিভি আছে তার বাসায়ই তো হবে।
ফলাফল সবাই জানেন। আমি আবার সভাপতি। এতে আমার কোনো আনন্দ নাই, দায়িত্ব আছে।
একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। এই পত্রিকা কমিটির মুখপাত্র না। এটি স্বাধীন। সম্পাদক হিসেবে আমি নিশ্চিত করব যে এখানে সত্য ছাপা হবে, কমিটির অনুমোদনক্রমে।
বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি। আর হিসাব হলো বিশ্বাসের প্রমাণ। দুটোই আমার কাছে আছে।
আকাশ পরিষ্কার। ছাদে কাপড় শুকাবে। তবে ৭ তলার কাপড় আগে, কারণ লাইন ওখানেই শুরু।
গত সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। তথ্যটি ভুল। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তিনি দাঁড়ান নাই। সম্পাদক দুঃখিত নন।