দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

প্রধান প্রতিবেদন

ভোটের আগের রাতে গেট দিয়া ঢুকল এক ঠোঙ্গা জিলাপি

ছবি: নিজস্ব সূত্র। ভোটের আগের রাতে গেট দিয়া ঢুকল এক ঠোঙ্গা জিলাপি

নির্বাচনের বারো ঘণ্টা আগে সুখনীড় টাওয়ারের গেট দিয়া কী কী ঢুকছে, তার তালিকা আমার খাতায় আছে। তালিকার সবচেয়ে দামি আইটেম টাকা না, একটা ঠোঙ্গা। ভিতরে জিলাপি। সাত তলা থেইকা নামছে, দুই তলায় উঠছে, রাত এগারোটায়।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“ভোটের আগের রাতে দুই স্যারই আমারে চা খাওয়াইলো। আমি দুই কাপই খাইছি। গণতন্ত্রে এইটারে বলে নিরপেক্ষতা।”

দারোয়ান · গেটে, দুই হাতে দুই কাপ চা।

প্রতিবেদকের নোট, রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক: দুই কাপ চা দুই ফ্ল্যাট থেইকা নামছে। আমি নিজে নামাইছি। কে কারে পাঠাইছে, দুই পক্ষই আমার কাছে জানতে চাইছে। আমি বলি নাই। বললে পরের সপ্তাহে আর কেউ পাঠাইত না।

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“ব্যালটে দুইটা নাম। আমি খুঁজতেছিলাম মতিনের নাম। পাখিদের কেউ মনোনয়ন দেয় না।”

শাহেদ · ছাদে, পানির ট্যাংকের পাশে, হাতে একটা সাদা কাগজ আকাশের দিকে ধরা।

প্রতিবেদকের নোট, রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক: ছাদে কাপড় নাড়তে গেছিলাম। ছোট স্যার একলা দাঁড়ায়ে ছিলেন। উনি কাউরে কিছু বলেন না, তাই উনার খবরের দাম কম। তবু আমি শুইনা রাখি। কখন কোন খবর কাজে লাগে বলা যায় না।

২০:০০ · প্রতিবেদন

বৃষ্টির রাতে গেটে ভিজলেন এক রাইডার, উপরে গেল শুকনা প্যাকেট

শুক্রবার রাতে পাঁচ তলার জন্য একটা কাচ্চির প্যাকেট আসছে। প্যাকেট শুকনা ছিল। যে আনছে, সে ভিজা ছিল। দুইটাই আমার সামনে দিয়া গেছে।…

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“ভোটকেন্দ্র সাত তলায়, লিফট নষ্ট। আজকে গণতন্ত্র মানে কার্ডিও।”

তানিয়া · সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে, রেলিংয়ে ভর দিয়া, হাতে ফোন, লিফটের নোটিশের দিকে তাকায়ে।

প্রতিবেদকের নোট, দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি: লিফট কাল রাত থেইকা বন্ধ ছিল। কেন বন্ধ, এই প্রশ্ন আমারে কেউ করে নাই। ভোট শেষ হওয়ার পর লিফট চালু হইছে। আমি সুইচ টিপছি, এইটুকুই আমার কাজ।

২০:০০ · প্রতিবেদন

ভোটকেন্দ্র সভাপতির ড্রইংরুমে, লিফট বন্ধ, একটি ব্যালট বাতিল

সুখনীড় টাওয়ারের নির্বাচন হইছে সাত তলায়, সভাপতির ড্রইংরুমে। ফল সাত-ছয়। একটা ভোট বাতিল হইছে। বাতিল ভোটটা কার, সেইটা ঘরের সবাই জানে, কারণ সবাই একসাথে তাকাইছিল।…

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“আমি কারে ভোট দিছি বলবো না। গোপন ব্যালট। তবে যে জিতছে, তারেই দিছি। এইটুকু বলা যায়।”

মকবুল হোসেন · পার্কিংয়ে, নিজের দুইটা প্লাস্টিক চেয়ারের পাশে, হাত ভাঁজ করা।

প্রতিবেদকের নোট, দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি: পার্কিংয়ে চেয়ার রাখার নিয়ম নাই। দুইটা চেয়ার আছে। নিয়মটা কার জন্য বানানো, সেই প্রশ্ন আমি করি না। আমি গেট খুলি আর বন্ধ করি।

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“নতুন কমিটি, পুরান চাবি। আমার কাজ একটাই বাড়ছে। দুই স্যারের চা এখন এক টেবিলে দিতে হয়।”

রহিমা বুয়া · করিডোরে, স্টিলের ট্রেতে দুই কাপ চা, আধা খোলা দরজার সামনে থামা।

প্রতিবেদকের নোট, দারোয়ান, গেট প্রতিনিধি: আপা বলছেন কাজ বাড়ছে। আমার হিসাবে কাজ কমছে, আগে দুই তলায় দুইবার যাইতে হইত। তবে আপা যেইটা বলেন, সেইটাই ছাপা হয়। উনি প্রধান প্রতিবেদক।

২০:০০ · প্রতিবেদন

পার্কিংয়ে ডিজিটাল সাক্ষরতার ক্লাস, শিখলেন এক তরুণী

বুধবার বিকালে পার্কিংয়ে একটা ক্লাস হইছে। নাম ডিজিটাল সাক্ষরতা। শেখানোর কথা ছিল তানিয়া আপার। ক্লাস শেষে দেখা গেল, শিখছেন তিন তলার ভাবী, আর শিখাইছেন আম্মা।…

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“আমার ভোট বাতিল হইছে। দুই পক্ষই আমারে চাইছিলো, আমি কাউরে না করি নাই। বিনয়ের এই একটা দোষ, গণনায় আসে না।”

করিম বক্সী · সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে, খবরের কাগজে মোড়ানো একটা ঠান্ডা সিঙ্গারা হাতে।

প্রতিবেদকের নোট, রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক: সিঙ্গারাটা আগের দিনের। আমি নতুন দিতে চাইছিলাম। উনি বললেন, নষ্ট করা ঠিক না। এই কথাটা উনি প্রতিবার বলেন, আর প্রতিবার আমি নতুনটা অন্য ফ্ল্যাটে দিয়া আসি।

২০:০০ · প্রতিবেদন

বিজয়ের সন্ধ্যায় কোলাকুলি, বিরোধী প্রার্থী পাইলেন সিল

সাত-ছয় ভোটে সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাত তলায় সংবর্ধনা হইছে। সংবর্ধনার প্রধান ঘটনা: পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান কোষাধ্যক্ষ ও উন্নয়ন উপদেষ্টা হইছে…

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শী

“কোষাধ্যক্ষ হইছি। এখন হিসাব আমি রাখি। আর হিসাবের হিসাব কে রাখবে, সেইটাও আমি ঠিক করি।”

আব্দুল মান্নান · নিজের ছোট টেবিলে, পুরানা খাতায় সিল মারতেছেন, টিউব লাইট, রাত।

প্রতিবেদকের নোট, রহিমা বুয়া, প্রধান প্রতিবেদক: খাতাটা নতুন না। ডিজেল বিলের পুরানা খাতা, পিছনের পাতায় ভোটের হিসাব লেখা ছিল। এখন সামনের পাতায় সিল পড়তেছে। একই খাতা, দুই মাথা। আমি চা দিয়া চইলা আসছি।

সম্পাদকীয় ও অন্যান্য

সম্পাদকীয়

সেবার সুযোগ

আমি সভাপতি হতে চাই নাই। এই কথাটা কেউ বিশ্বাস করে না, তাই বারবার বলতে হয়।

নির্বাচনের আগের রাতে আমার ড্রইংরুমে যারা বসেছিলেন, তারা জানেন আমি কী বলেছিলাম। বলেছিলাম, নতুন কেউ আসুক। তরুণ কেউ। আমি ক্লান্ত। তখন মান্নান সাহেব বললেন, স্যার, আপনি ছাড়া বিল্ডিং চলবে না। কথাটা তার, আমার না। আমি শুধু শুনেছি।

ভোট হয়েছে সুষ্ঠু পরিবেশে। কেন্দ্র ছিল আমার বসার ঘর, কারণ নিচতলায় আলো কম এবং সিসিটিভি নাই। স্বচ্ছতার জন্যই এই ব্যবস্থা। যারা বলছেন ভোটকেন্দ্র সভাপতির বাসায় হওয়া উচিত না, তাদের বলি: তাহলে কার বাসায় হবে? যার সিসিটিভি আছে তার বাসায়ই তো হবে।

ফলাফল সবাই জানেন। আমি আবার সভাপতি। এতে আমার কোনো আনন্দ নাই, দায়িত্ব আছে।

একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। এই পত্রিকা কমিটির মুখপাত্র না। এটি স্বাধীন। সম্পাদক হিসেবে আমি নিশ্চিত করব যে এখানে সত্য ছাপা হবে, কমিটির অনুমোদনক্রমে।

বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি। আর হিসাব হলো বিশ্বাসের প্রমাণ। দুটোই আমার কাছে আছে।

আনোয়ার চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক · সভাপতি, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি

আবহাওয়া

আকাশ পরিষ্কার। ছাদে কাপড় শুকাবে। তবে ৭ তলার কাপড় আগে, কারণ লাইন ওখানেই শুরু।

সংশোধনী

গত সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। তথ্যটি ভুল। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তিনি দাঁড়ান নাই। সম্পাদক দুঃখিত নন।

বিজ্ঞাপন ও টু-লেট

  • টু-লেট: ২ বেড, দক্ষিণমুখী। ভাড়া আলোচনা সাপেক্ষে (সভাপতির অনুমোদনক্রমে)।
  • প্রাইভেট টিউশন: ইংরেজি ও আত্মবিশ্বাস। অনলাইনে। আলো ভালো থাকলে ক্যামেরা অন। যোগাযোগ: ৩এ।
  • হারানো বিজ্ঞপ্তি: একটি চড়ুই, নাম মতিন। কেউ দেখে থাকলে ৬বি।