বৃষ্টির রাতে নয় মিনিট দেরি, ডেলিভারি কর্মীকে এক তারা দিলেন ফ্ল্যাট মালিক

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে বৃষ্টির রাতে খাবার পৌঁছাতে নয় মিনিট দেরি হওয়ায় এক ডেলিভারি কর্মীকে সর্বনিম্ন রেটিং দিয়েছেন ভবনের এক ফ্ল্যাট মালিক। ওই কর্মীকে কোনো বকশিশও দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মকবুল হোসেন (৪৮) নিজেকে ল্যান্ড ওনার হিসেবে পরিচয় দেন।
মকবুল বলেন, অ্যাপে সময় দেওয়া ছিল ৩৫ মিনিট, খাবার এসেছে ৪৪ মিনিটে। বিলম্বের কারণে তিনি বকশিশ দেননি।
তার ভাষ্য, এটি নীতির ব্যাপার। লেট করলে টিপস নাই, এইটা শিক্ষা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাস্তায় পানি জমে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তায় পানি তার নিজেরও জানা আছে। তিনি অফিসে নয় মিনিট দেরি করলে চাকরি থাকত না বলে দাবি করেন।
তিনি অ্যাপে এক তারা রেটিং দিয়ে মন্তব্যের ঘরে তিনটি শব্দ লিখেছেন বলে জানান। খাবারের মান ভালো ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন, তবে সেটিকে আলাদা বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ওই কর্মী গেটে পৌঁছান রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে। তিনি ভিজে গিয়েছিলেন, তবে খাবারের প্যাকেটটি শুকনা ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ওই কর্মীকে ছাউনির নিচে দাঁড়াতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। সাত মিনিট পর তিনি খালি হাতে নিচে নামেন।
একই রাত ২টার দিকে মকবুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধৈর্য বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটিতে ৪০টি লাইক পড়ে বলে তিনি জানান।
তার স্ত্রী রোকসানা (৪৩) বলেন, ডেলিভারি কর্মী নয় মিনিট দেরি করেছেন, তার স্বামী বিশ বছর।
তার মা, ভবনের বাসিন্দা আম্মা (৭৫) বলেন, ছেলেটিকে এক তারা, আকাশকে ৪০ লাইক এবং নিজেকে পাঁচ তারা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, হিসাব মিলে গেছে।
ভবনের বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, রাত ২টায় ধৈর্যের পোস্ট এবং সকাল ৯টায় এক তারা, কনটেন্ট ক্যালেন্ডার ঠিক আছে।
পরদিন জুমার নামাজে ওই ডেলিভারি কর্মীর সঙ্গে তার দেখা হয় বলে মকবুল জানান। তিনি বলেন, তিনি ওই কর্মীকে মাফ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।