দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · প্রতিবেদন

সভাপতির বসার ঘরে ভোট, একটি ব্যালট বাতিল, গণনা করলেন ভবন ব্যবস্থাপক

ছবি: নিজস্ব সূত্র। সভাপতির বসার ঘরে ভোট, একটি ব্যালট বাতিল, গণনা করলেন ভবন ব্যবস্থাপক

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে সাত-ছয় ভোটে বর্তমান সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। একটি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ভবনের সপ্তম তলায় ভোট গ্রহণ চলে। কেন্দ্র ছিল সভাপতি আনোয়ার চৌধুরীর (৬২) বসার ঘর।

কেন্দ্র নির্ধারণ প্রসঙ্গে সভাপতি বলেন, তার ঘরটিই সবচেয়ে বড় এবং সেটি নিরপেক্ষ জায়গা। ভবনে তার ঘরের চেয়ে বড় ঘর নেই বলে বাসিন্দারাও নিশ্চিত করেছেন।

ব্যালট গণনা করেন ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০)। তিনি সমিতির সভাপতির অধীনে কর্মরত।

বাতিল হওয়া ব্যালটটি চতুর্থ তলার বাসিন্দা করিম বক্সীর (৫৫)। তিনি একটি ব্যালটে দুই প্রার্থীর নামেই টিক দিয়েছিলেন।

করিম বলেন, ঘরে ঢোকার পর সভাপতি তার কাঁধে হাত রেখে তাকে ভবনের বিবেক বলে সম্বোধন করেন এবং ভোট চান। এর পরপরই অন্য প্রার্থী তার কানে কানে বলেন, তাকে ছাড়া তার কেউ নেই।

তার ভাষ্য, দুজনই তাকে চেয়েছিলেন এবং এই সম্মান তিনি জীবনে পাননি। তিনি কাউকে না করতে পারেননি বলে দুই নামেই টিক দেন।

ভোট বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার ভোট গোনা হয়নি, কিন্তু দুজনই তাকে চেয়েছিলেন। গোনার চেয়ে চাওয়াটা বড় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভবনের গৃহকর্মী রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, সকাল ৮টায় তিনি সপ্তম তলায় চা ও সিঙ্গারার ব্যবস্থা করতে যান। লিফট তখন বন্ধ ছিল।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তৃতীয় তলার এক নারী বাসিন্দা দুই তলা উঠে বসে পড়েন এবং করিম বক্সীকে তার ভোট দিয়ে আসতে বলেন। গোপন ব্যালট বলে জানানো হলে তিনি নিচে নেমে যান। তিনি আর ফিরে আসেননি।

ভবনের বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, ভোটকেন্দ্র প্রার্থীর ঘরে, ব্যালট গোনেন প্রার্থীর ম্যানেজার, আর ভোটের সকালেই লিফট নষ্ট। বাকি সব ফেয়ার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পঞ্চম তলার বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৪৮) বলেন, তিনি সিঁড়ি বেয়ে সপ্তম তলায় উঠে ভোট দিয়েছেন। কাকে ভোট দিয়েছেন তা তার মনে নেই, তবে উঠেছেন। এটাই গণতন্ত্র বলে তিনি দাবি করেন।

ষষ্ঠ তলার বাসিন্দা শাহেদ (৩৪) ভোট দিতে পারেননি। তিনি বলেন, তিনি লিফটে আটকা ছিলেন এবং ভেতরে একটি মশা ছিল। দুজনের কেউই ভোট দিতে পারেননি বলে তিনি জানান।

ভোট শেষে অতিথিদের জন্য রাখা সিঙ্গারা ঠান্ডা হয়ে যায়। যারা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে পারেননি তাদের ভাগের দুটি সিঙ্গারা করিম বক্সী গ্রহণ করেন বলে গৃহকর্মী জানিয়েছেন।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর লিফট সচল হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের বয়ান: ভোটকেন্দ্র সভাপতির ড্রইংরুম

← আগের প্রতিবেদনপরের প্রতিবেদন →