ভোটের আগের রাতে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের বাসায় জিলাপি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তাবের অভিযোগ

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের আগের রাতে এক প্রার্থীর বাসায় মিষ্টি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। ওই প্রার্থীর দাবি, মিষ্টির সঙ্গে তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। যার বাসায় মিষ্টি পৌঁছায় তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল মান্নান (৫২)।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০) একটি ঠোঙ্গা হাতে ভেতরে ঢোকেন। ঠোঙ্গায় দোকানের নাম ছিল না, গায়ে লেখা ছিল ‘ঐক্য’।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, লিফট দ্বিতীয় তলায় থামে এবং ১১টা ২২ মিনিটে নিচে নামে। নামার সময় বাতেনের হাতে ঠোঙ্গাটি ছিল না।
মান্নান বলেন, ঠোঙ্গাটি তার বাসায় পৌঁছেছে এবং তিনি একটি জিলাপি খেয়েছেন। তার ভাষ্য, বাতেন তাকে জানান যে সপ্তম তলা থেকে প্রস্তাব এসেছে, তিনি সরে দাঁড়ালে কোষাধ্যক্ষের পদ তাকে দেওয়া হবে, সিলসহ।
তিনি আরও বলেন, একই ব্যক্তি দুই পক্ষকে আটটি করে ভোটের হিসাব দিয়েছেন, অথচ ভবনে ফ্ল্যাট রয়েছে ১৪টি। এতে তিনি কোনো সমস্যা দেখছেন না বলে জানান।
বিষয়টিকে তিনি নিরপেক্ষতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন, ম্যানেজ হয়ে যাবে, এইটা সাইন্স।
তিনি জানান, ওই রাতে তিনি ডিজেল বিলের পুরাতন খাতার পেছনের পাতায় ভোটের হিসাব লিখে রেখেছেন। খাতাটি তার নিজের কাছেই থাকে বলে তিনি জানান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সমিতির সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী (৬২) বলেন, গণতন্ত্রে হিসাব লাগে না, বিশ্বাস লাগে। বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি।
জিলাপি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, জিলাপিটা কেমন ছিল।
মান্নানের মেয়ে তানিয়া (২২) বলেন, তার বাবা সারা রাত হিসাব মিলিয়েছেন, অথচ সেই হিসাব ভবন ব্যবস্থাপক আগেই দুই জায়গায় মিলিয়ে রেখেছিলেন।
ভবন ব্যবস্থাপক বাতেনের বক্তব্য জানা যায়নি। খালি ঠোঙ্গাটি দ্বিতীয় তলার বারান্দায় রাখা আছে এবং মান্নান জানিয়েছেন, সেটি তিনি প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করছেন।
নির্বাচন রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে সপ্তম তলায়, সভাপতির বসার ঘরে।