দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · প্রতিবেদন

বিজয়ের সন্ধ্যায় কোলাকুলি, পরাজিত প্রার্থীকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব ও সিল হস্তান্তর

ছবি: নিজস্ব সূত্র। বিজয়ের সন্ধ্যায় কোলাকুলি, পরাজিত প্রার্থীকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব ও সিল হস্তান্তর

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীকে কোষাধ্যক্ষ ও উন্নয়ন উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে তার হাতে সমিতির সিল হস্তান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবনের সপ্তম তলায় সভাপতির বসার ঘরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি হয়। সাত-ছয় ভোটে জয়ী হয়ে সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ার চৌধুরী (৬২)।

সভাপতি বলেন, এই নির্বাচনে কেউ হারেনি, বিল্ডিং জিতেছে। এরপর তিনি পরাজিত প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে (৫২) সামনে ডেকে জড়িয়ে ধরেন।

ঘোষণায় বলা হয়, মান্নান একই সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও উন্নয়ন উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন।

ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০) একটি কাঠের বাক্সে করে সিলটি নিয়ে আসেন। মান্নান সিলটি হাতে নিয়ে আলোর দিকে ধরে দেখেন।

এক ভোটে জয়ের বিষয়ে সভাপতি বলেন, গণতন্ত্রে এক ভোটই যথেষ্ট, বেশি হলে অহংকার আসে।

প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোষাধ্যক্ষ করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানুষ ভাবে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু তারা সবসময় এক টিম ছিলেন।

অনুষ্ঠানে তৃতীয় তলার বাসিন্দা তানিয়া (২২) ডিজেল বিলের অডিট প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে সভাপতি বলেন, অডিট মান্নানই করবেন, কারণ যিনি হিসাব রেখেছেন তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় কী আছে।

এরপর তিনি আর কোনো প্রশ্ন করেননি।

অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ আলাদাভাবে বসেন। সেখানে মানুষ কী বলবে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, মানুষ বলবে ঐক্য। তিনি চেয়ার নিয়েছেন, অন্যজন টাকা নিয়েছেন, এটিকে টিমওয়ার্ক বলা হয়। একজন দেখেন, একজন রাখেন।

সভাপতির স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পঞ্চম তলার বাসিন্দা রোকসানা (৪৩) বলেন, সাজানো লড়াই, তারপর কোলাকুলি। বিয়ের পরও এমন হয়, শুধু সিলটা থাকে না।

তানিয়া বলেন, নির্বাচন শেষ, বিরোধী দল এখন ট্রেজারার। এটিই গণতন্ত্রের সবচেয়ে ইফিশিয়েন্ট ভার্সন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, অনুষ্ঠান শেষে নিচে নামার সময় তিনি সভাপতিকে বলেন, চাবি সবসময় একই গোছার থাকে, মানুষ বদলায়, তালা বদলায় না।

তার ভাষ্য, সভাপতি কথাটির অর্থ বোঝেননি এবং আনুগত্যের জন্য তাকে দুইশ টাকা দিয়েছেন। তিনি টাকাটি গ্রহণ করেছেন।

ভবনের গৃহকর্মী রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, দুই কর্মকর্তা এখন এক টেবিলে বসেন। আগে খবরের জন্য দুই ফ্ল্যাটে যেতে হতো।

ডিজেল বিলের অডিটের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। বিষয়টি সমিতিকে জানানো হয়েছে এবং সমিতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সভাপতি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের বয়ান: বিজয় ও পুনর্মিলন

← আগের প্রতিবেদন