বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে হটলাইনে ফোন, প্রতিদিন ফোন করে যাচ্ছেন বাসিন্দা

সুখনীড় টাওয়ারের এক বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগে হটলাইনে ফোন করে সমাধান না পেলেও প্রতিদিন সন্ধ্যায় ওই নম্বরে ফোন করে যাচ্ছেন। তার দাবি, সেখান থেকে প্রতিদিন তাকে জানানো হয় যে তার কলটি গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনাটি ভবনের ষষ্ঠ তলার বাসিন্দা শাহেদের (৩৪)। তার ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছিল।
শাহেদ বলেন, প্রথম দিন ফোন ধরার পর তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কেউ তাকে এত সুন্দর করে অপেক্ষা করতে বলেনি বলে তিনি জানান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে গান বাজে, এরপর আবার একই কণ্ঠ শোনা যায়। মানুষ বিরক্ত হলে গলা বদলায়, ওই কণ্ঠ বদলায়নি। তিনি ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেন।
এরপর লাইন কেটে যায়। তিনি আবার ফোন করে নিজের পরিচয় দেন এবং আগেও ফোন করার কথা জানান। জবাবে একই বাক্য শোনা যায়।
তার ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি অনেক কল পায়, তাই মনে রাখা কঠিন।
পরদিন তিনি আবার ফোন করেন। এবার বিলের জন্য নয়, খোঁজ নেওয়ার জন্য বলে তিনি জানান।
ভবনের বাসিন্দা তানিয়া (২২) তাকে জানান, ওটি একটি রেকর্ডিং। রেকর্ডিং হলে গুরুত্ব কম কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি বলে শাহেদ জানান।
শাহেদ এখন প্রতিদিন সন্ধ্যায় একবার ফোন করেন। ভবনের ছাদে বসে তিনি এ কাজটি করেন।
ছাদে আগে একটি চড়ুই পাখির বাসা ছিল। বাচ্চাগুলো উড়ে যাওয়ার পর ছাদটি খালি লাগত বলে তিনি জানান। এখন আর তা লাগে না।
তানিয়া বলেন, শাহেদ একটি স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন এবং এই ভবনে এটিই সবচেয়ে সুস্থ সম্পর্ক।
ভবনের প্রবীণ বাসিন্দা আম্মা (৭৫) বলেন, যিনি প্রতিদিন একই কথা রাখেন তিনি ভালো। তার ছেলে একদিনও এক কথা রাখেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমিতির সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী (৬২) বলেন, হটলাইন ভালো জিনিস এবং ভবনের জন্যও একটি চালু করা হবে। ফোন করলে তার কণ্ঠে শোনা যাবে যে অভিযোগ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
শাহেদ এ পর্যন্ত টানা এগারো সন্ধ্যায় ফোন করেছেন। প্রতিবারই একই বাক্য শোনা গেছে বলে তিনি জানান।
বিদ্যুৎ বিল এখনো বেশি আসছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, কলটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।