দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৮ · প্রতিবেদন

কোটেশন ছাড়াই উন্নয়ন তহবিল গঠন, তদারকি কমিটিতে সদস্য একজন

ছবি: নিজস্ব সূত্র। কোটেশন ছাড়াই উন্নয়ন তহবিল গঠন, তদারকি কমিটিতে সদস্য একজন

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের কথা বলে ফ্ল্যাট প্রতি মাসে পাঁচশ টাকার একটি উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পের কোনো কোটেশন এখনো নেওয়া হয়নি এবং তহবিল তদারকির জন্য গঠিত কমিটিতে সদস্য রয়েছেন একজন।

বৃহস্পতিবার ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। চাঁদা সার্ভিস চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হবে।

সিদ্ধান্তটি উপস্থাপন করেন সমিতির সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী (৬২)। উন্নয়নের ধরন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হবে এবং এতে বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক হবে।

কোটেশনের বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান (৫২) প্রশ্ন তুললে সভাপতি বলেন, আগে টাকা, তারপর কোটেশন। টাকা ছাড়া কোটেশন চাইলে সরবরাহকারীরা বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এরপর কোষাধ্যক্ষ সিদ্ধান্তে সিল দেন এবং প্রস্তাবটি পাস হয়।

তহবিল তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য একজন, তিনি সভাপতি নিজে। সভাপতি হিসেবে নয়, সাধারণ সদস্য হিসেবে তিনি কমিটিতে রয়েছেন বলে জানান।

চতুর্থ তলার নতুন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে পার্কিং বাবদ আদায় করা মাসিক পাঁচশ টাকাও এই তহবিলে যুক্ত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই সভায় ভবনে অষ্টম সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ক্যামেরাটি ডিজেলের ড্রামের দিকে তাক করে বসানো হয়।

ক্যামেরাটি কার দিকে তাক করা হয়েছে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, কারও দিকে নয়, ড্রামের দিকে।

পরদিন সকালে মনিটরে ড্রামগুলো দেখা যায়নি। ফ্রেমে খালি দেয়াল দেখা যায়।

নিচে গিয়ে দেখা যায় ড্রামগুলো দুই হাত সরানো হয়েছে। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী (৩৮) জানান, বৃষ্টিতে ভিজে যেত, তাই ড্রামগুলো সরানো হয়েছে।

সভাপতি বলেন, ক্যামেরায় এখন দেয়াল দেখা যায় এবং দেয়ালে কিছু হয় না, অর্থাৎ চুরি বন্ধ হয়েছে। এর প্রমাণ মনিটরে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তৃতীয় তলার বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, কোটেশন নেই, কমিটিতে একজন এবং ক্যামেরায় দেয়াল। উন্নয়ন হচ্ছে, শুধু ছবিতে আসছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পঞ্চম তলার বাসিন্দা রোকসানা (৪৩) বলেন, মাসে পাঁচশ টাকা বাজারের টাকা থেকে যাবে। সূর্য পালায় না ঠিকই, তবে সংসার পালায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ক্যামেরা ড্রামের দিকে দেওয়া হয়েছে এবং ড্রাম দুই হাত সরেছে। ক্যামেরা ঠিক আছে, সমস্যা ড্রামের বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সোলার প্রকল্পের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, আগে তহবিল, সূর্য পালিয়ে যাচ্ছে না।

অষ্টম ক্যামেরাটির খরচ ‘সাংগঠনিক খাত’ ফাইলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্যামেরাটি বসানোর কাজ তদারকি করেন ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন, যার বক্তব্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।

তহবিলের হিসাব কোথায় সংরক্ষণ করা হবে এবং কে নিরীক্ষা করবেন তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

মনিটরে আটটি পর্দা রয়েছে। সাতটিতে করিডোর ও গেট দেখা যায়। একটিতে দেয়াল। তদারকি কমিটির সদস্যসংখ্যা এক।

শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের বয়ান: উন্নয়ন তহবিল

← আগের প্রতিবেদন