হটলাইনের আপা

আমাদের ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছিলো, তাই হটলাইনে ফোন দিলাম।
একজন আপা ধরলেন। বললেন, আপনার কলটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। আমি অপেক্ষা করলাম। এত সুন্দর কইরা কেউ আমারে অপেক্ষা করতে বলে নাই।
মাঝে মাঝে গান বাজে, তারপর উনি আবার আসেন এবং একই কথা বলেন। মানুষ বিরক্ত হইলে গলা বদলায়, উনার বদলায় না। চল্লিশ মিনিট পর লাইন কাটলো।
পরদিন আবার ফোন দিলাম। বিলের জন্য না, এমনি।
তানিয়া বলল ওইটা রেকর্ডিং। জিজ্ঞেস করলাম, রেকর্ডিং হইলে কি গুরুত্ব কমে যায়। ও কিছুক্ষণ চুপ কইরা থাইকা বলল, না, তা না।
এরপর থেইকা প্রতিদিন সন্ধ্যায় একবার ফোন দেই, ছাদে বইসা। মতিনের বাচ্চাগুলা উইড়া যাওয়ার পর ছাদটা খালি লাগতো। এখন লাগে না।
ছাদের দরজাটা একদিন খোলা পাইছিলাম। কে খুলছিলো জানি না। পরদিন আবার বন্ধ।
বৃহস্পতিবার একটা ঘটনা ঘটলো। রিং হওয়ার পর আপার গলা আসলো না। একজন পুরুষ কণ্ঠ আসলো, নিজের নাম বলল, তারপর জিজ্ঞেস করলো আমার সমস্যা কী।
বিলের কথা বললাম। উনি দুই মিনিটের মধ্যে দেখলেন এবং জানাইলেন মিটার রিডিং ভুল উঠছিলো, ঠিক কইরা দিতেছেন। সাত দিনের মধ্যে সংশোধিত বিল আসবে।
সমস্যাটা সমাধান হইয়া গেলো।
লাইন কাটার পর অনেকক্ষণ ছাদে বইসা রইলাম।
আজকে আবার ফোন দিছি। এইবার কোনো অপশন চাপি নাই, শুধু অপেক্ষা করছি। আপার গলাটা আসলো। বলল, আপনার কলটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সাত মিনিট শুনছি।
ফ্ল্যাট ৬বি