নিজের রাখা হিসাব নিজেই নিরীক্ষা করলেন কোষাধ্যক্ষ, ব্যালেন্স একশ টাকা

সুখনীড় টাওয়ারের ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির প্রথম নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নিরীক্ষা করেছেন সমিতির কোষাধ্যক্ষ নিজেই, যিনি হিসাবগুলোও নিজে রেখেছিলেন।
সোমবার রাতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিজের ফ্ল্যাটে বসে তিনি নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেন। তিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান (৫২)।
নিরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যিনি হিসাব রেখেছেন তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় কী আছে। এর চেয়ে স্বচ্ছ কিছু হয় না বলে তিনি দাবি করেন।
ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০) সব বিল একটি ফাইলে জমা দেন। ফাইলটির উপরে ‘সাংগঠনিক খাত’ লেখা ছিল।
ওই খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে বাতেন বলেন, যেসব খরচের রসিদ নেই সেগুলো এই ফাইলে রাখা হয়।
কোষাধ্যক্ষ বলেন, এটি একটি ভালো ব্যবস্থা। যার রসিদ নেই তার একটি জায়গা প্রয়োজন, না হলে সেগুলো এদিক ওদিক ঘোরে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিলে দেখা যায়, একটি সভায় ৪৭ কাপ চায়ের খরচ দেখানো হয়েছে। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন নয়জন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাতেন বলেন, নিরাপত্তাকর্মী ও গৃহকর্মীরও চা খাওয়ার প্রয়োজন হয়। কোষাধ্যক্ষ এতে সম্মতি দিয়ে বিলে সিল দেন।
ডিজেল বাবদ দশ ড্রামের বিল উপস্থাপন করা হয় এবং রসিদ থাকায় সেটিতেও সিল দেওয়া হয়। রসিদ যেখানে থাকে প্রশ্ন সেখানে থাকে না বলে কোষাধ্যক্ষ মন্তব্য করেন।
এছাড়া প্রজেক্টর ভাড়া, ইলিশের মান যাচাই ও ছাদের তালা বাবদ খরচও অনুমোদন করা হয়। সব হিসাব তার নিজের লেখা হওয়ায় কোনো ভুল পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
নিরীক্ষা অনুযায়ী মোট আয় এক লাখ ১২ হাজার টাকা এবং ব্যয় এক লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা। ব্যালেন্স দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকা।
মাসের শেষে ১০০ টাকা থাকা মানে ভবন লাভে আছে বলে তিনি দাবি করেন।
‘সাংগঠনিক খাত’ ফাইলটিতে রসিদবিহীন খরচের সংখ্যা কত, তা জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ বলেন, গোনা হয়নি।
এক পাতার প্রতিবেদন তৈরি করে তাতে সিল দিয়ে ছবি তুলে সমিতির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ করা হয়। গ্রুপে পিডিএফ চাওয়া হলে তিনি জানান, সিলটাই পিডিএফ।
সিলটি তিনি রাতে বালিশের পাশে রাখেন বলে জানান।
সমিতির সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী (৬২) বলেন, স্বচ্ছতার এমন উদাহরণ দেশে কম। নিজের হিসাব নিজে দেখলে বাইরের লোক লাগে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তৃতীয় তলার বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, আয় এক লাখ ১২ হাজার, ব্যয় এক লাখ ১১ হাজার ৯০০, সাশ্রয় ১০০ টাকা এবং বাকিটা সাংগঠনিক।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেন, কর্মকর্তা সিলে বিশ্বাস করেন এবং তিনি খাতায়। খাতা পকেটে থাকে, সিল টেবিলে। কোনটি আগে হারায় তা সময় বলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ভবন ব্যবস্থাপক বাতেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাইরের কোনো নিরীক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি। নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি এক পাতার এবং তাতে নিরীক্ষকের সইয়ের ঘর নেই।
কোষাধ্যক্ষ সিলটি রাতে বালিশের পাশে রেখেছিলেন। সকালে বালিশের কভারে কালি লেগে থাকতে দেখা যায়।