দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৮ · কলাম

প্রথম অডিট

ছবি: নিজস্ব সূত্র। আব্দুল মান্নান, প্রথম অডিট প্রসঙ্গে।

কোষাধ্যক্ষ হইছি। প্রথম কাজ: অডিট। নিজের হিসাব নিজে দেখা। এর চেয়ে স্বচ্ছ আর কী হয়। যে হিসাব রাখছে, সে-ই সবচেয়ে ভালো জানে কোথায় কী আছে। আনোয়ার ভাই ঠিকই বলছিলেন।

বাতেনরে ডাকলাম। বললাম, "সব বিল আনো।" বাতেন একটা ফাইল আনলো। উপরে লেখা "সাংগঠনিক খাত"। আমি বললাম, "এইটা কী?" বাতেন বলল, "স্যার, যেগুলার রসিদ নাই, সেগুলা এইখানে।" ভালো সিস্টেম। যার রসিদ নাই তার একটা জায়গা লাগে। নাইলে ওরা এদিক ওদিক ঘোরে।

বিল দেখলাম। চা: সাতচল্লিশ কাপ, এক মিটিংয়ে। মিটিংয়ে ছিলো নয়জন। আমি বললাম, "বাতেন, নয়জনে সাতচল্লিশ কাপ?" বাতেন বলল, "স্যার, দারোয়ান আর রহিমা বুয়ারও তো খাওয়া লাগে।" আমি বললাম, "ঠিক আছে।" স্টাফের কথা ভাবা লাগে। সিল দিলাম।

ডিজেল: দশ ড্রাম। রসিদ আছে। সিল দিলাম। রসিদ যেখানে আছে, প্রশ্ন সেখানে নাই। এইটা সাইন্স।

প্রজেক্টর ফি, ইলিশের কোয়ালিটি চেক, ছাদের তালা, সব দেখলাম। সব ঠিক। কারণ সব আমার লেখা। নিজের লেখা ভুল হয় না। হইলে সেইটা আগেই ঠিক কইরা ফেলতাম।

মোট: আয় এক লাখ বারো হাজার। ব্যয় এক লাখ এগারো হাজার নয়শো। ব্যালেন্স একশো টাকা। একশো টাকা কম না। মাসের শেষে একশো টাকা থাকা মানে বিল্ডিং লাভে আছে।

রিপোর্ট বানাইলাম। এক পাতা। নিচে সিল। ছবি তুইলা Final 3 গ্রুপে দিলাম। তানিয়া লিখলো, "বাবা, পিডিএফ দাও।" আমি লিখলাম, "সিলটাই পিডিএফ।" ও আর কিছু লিখে নাই। বুঝছে।

রাতে সিলটা বালিশের পাশে রাখলাম। দারোয়ানের নাকি একটা খাতা আছে, শুনছি। খাতা আর সিলের মধ্যে পার্থক্য কী জানো? খাতায় লেখা যায়। সিলে বিশ্বাস করা যায়।

আব্দুল মান্নানসাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি
ফ্ল্যাট ২বি

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াআয় এক লাখ বারো, ব্যয় এক লাখ এগারো নয়শো। বাবা একশো টাকা বাঁচাইছে। বাকিটা 'সাংগঠনিক'।
আনোয়ার চৌধুরীস্বচ্ছতার এমন উদাহরণ দেশে কম। নিজের হিসাব নিজে দেখলে বাইরের লোক লাগে না। বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি।
দারোয়ানস্যার সিলে বিশ্বাস করেন, আমি খাতায়। খাতা পকেটে থাকে, সিল টেবিলে। কোনটা আগে হারায়, সময় বলবে।
← ফ্রি এসিহটলাইনের আপা →