জেনারেটর বন্ধ থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিপণিবিতানে পাঁচ ঘণ্টা, নিরাপত্তাকর্মীর সহায়তায় বের হলেন দম্পতি

সুখনীড় টাওয়ারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটর চালু না হওয়ায় এক দম্পতি রাজধানীর একটি বিপণিবিতানে গিয়ে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করেন। পরে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের লিফট পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। ওই দম্পতির একজন চতুর্থ তলার বাসিন্দা করিম বক্সী (৫৫)।
ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০) ওই দিন জানান, ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। মাসের ১৩ তারিখে ডিজেল শেষ হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
করিম বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করেননি, সমাধান খুঁজেছেন। সমাধান হিসেবে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বিপণিবিতানে যান।
তার ভাষ্য, বিপণিবিতানের ঠান্ডার জন্য কেউ টাকা চায় না। মানুষ দোকানে ঢুকে জিনিস কিনে তারপর ঠান্ডা পায়, তিনি সরাসরি ঠান্ডা পান, মাঝখানের ধাপটি বাদ যায়।
তারা তৃতীয় তলার একটি বেঞ্চে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর একজন নিরাপত্তাকর্মী এসে তাদের কিছু প্রয়োজন কি না জানতে চান। আধা ঘণ্টা পর তিনি আবার এসে কেনাকাটার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।
করিম বলেন, ওই বিপণিবিতানের সেবার মান ভালো। নিরাপত্তাকর্মী নিজে এসে দুইবার খোঁজ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাবারের অংশে একটি দোকান বিনামূল্যে নমুনা বিতরণ করছিল। তিনি সেখান থেকে দুইবার নমুনা সংগ্রহ করেন। বিতরণকারী বিষয়টি বুঝতে পারলেও কিছু বলেননি বলে তিনি জানান।
বিকালে নিরাপত্তাকর্মী তৃতীয়বার আসেন, সঙ্গে আরেকজন ছিলেন। তারা বেঞ্চটি খালি করতে বলেন। এরপর দুজন নিরাপত্তাকর্মী তাদের লিফট পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
করিম বলেন, জীবনে কেউ তাকে লিফট পর্যন্ত পৌঁছে দেয়নি।
বেঞ্চে তারা মোট পাঁচ ঘণ্টা দশ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মী তিনবার তাদের কাছে আসেন।
বাসায় ফেরার পর তিনি জানান, ওই দিন তিনি পাঁচ ঘণ্টা শীতাতপ, দুটি নমুনা এবং সম্মান পেয়েছেন। তার স্ত্রী জানান, নমুনার সংখ্যা দুটি নয়, তিনটি।
ভবনের বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, করিম বক্সী কিছু না কিনে বিপণিবিতানে গিয়েছিলেন এবং নিরাপত্তা এসকর্ট নিয়ে ফিরেছেন।
পঞ্চম তলার বাসিন্দা রোকসানা (৪৩) বলেন, পাঁচ ঘণ্টা ঠান্ডা ঘরে কিছু না করে বসে থাকা বাসাতেও সম্ভব ছিল। তারা তো তাই করেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওই দিন সন্ধ্যায় ভবনে বিদ্যুৎ ফিরে আসে।
বিপণিবিতান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেনারেটরের ডিজেল কেন ১৩ তারিখে শেষ হলো, সে বিষয়ে সমিতি এখনো কিছু জানায়নি।