দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৮ · প্রতিবেদন

কাগজে দশ ড্রাম, ভ্যানে ছয়: সুখনীড় টাওয়ারে ডিজেলের হিসাবে গরমিল

ছবি: নিজস্ব সূত্র। কাগজে দশ ড্রাম, ভ্যানে ছয়: সুখনীড় টাওয়ারে ডিজেলের হিসাবে গরমিল

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে প্রতি মাসে সরবরাহ করা ডিজেলের পরিমাণের সঙ্গে সরবরাহ কাগজের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। কাগজে দশ ড্রাম উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ছয় ড্রাম সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতি মাসের এক তারিখে ভবনের গেটে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। ট্রাকে নয়, ভ্যানে করে ড্রামগুলো আনা হয়।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী (৩৮) বলেন, সরবরাহ কাগজে সই করেন ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০)। কাগজে লেখা থাকে দশ ড্রাম, ভ্যানে থাকে ছয়টি।

বাকি চার ড্রাম কোথায় যায় সে বিষয়ে তিনি কোনো প্রশ্ন করেননি বলে জানান। প্রশ্ন করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহকারী যাওয়ার সময় তাকে দুইশ টাকা দেন এবং চা খেতে বলেন। টাকাটি তিনি গ্রহণ করেন। তার ভাষ্য, মানুষ যেটা এমনি দেয় সেটা না নিলে সে মনে কষ্ট পায়।

তিনি আরও বলেন, ভবন ব্যবস্থাপক তাকে কিছু দেখেননি বলে জানিয়ে দেন এবং তিনি সম্মতি দেন। তবে তিনি দেখেননি, গুনেছেন বলে দাবি করেন। দেখা আর গোনা আলাদা বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার কাছে একটি ব্যক্তিগত খাতা রয়েছে বলে তিনি জানান। খাতাটিতে তারিখ, প্রকৃত ড্রামের সংখ্যা, কাগজে লেখা সংখ্যা এবং প্রাপ্ত অর্থের হিসাব রাখা হয়।

খাতাটি এ পর্যন্ত কেউ চাননি বলে তিনি জানান। খাতাটির মলাট ছেঁড়া এবং টেপ দিয়ে লাগানো।

সমিতির নতুন কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান (৫২) দায়িত্ব নেওয়ার পর হিসাব কড়া করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। নির্দেশের পরদিনও কাগজে দশ ড্রাম ও ভ্যানে ছয় ড্রাম পাওয়া যায়, তবে কাগজে এবার সিল যুক্ত ছিল।

মান্নান বলেন, খাতা রাখার প্রয়োজন নেই, হিসাব এখন তার কাছে, সিলসহ।

ভবনে সাতটি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ডিজেলের ড্রামের দিকে কোনো ক্যামেরা নেই বলে নিরাপত্তাকর্মী জানান। ক্যামেরা মানুষের দিকে থাকে, ড্রামের দিকে থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তৃতীয় তলার বাসিন্দা তানিয়া (২২) বলেন, নিরাপত্তাকর্মীর পকেটের খাতাটিই ভবনের একমাত্র নিরীক্ষা, বাকি সব সিল।

গৃহকর্মী রহিমা বেগম (৪৫) বলেন, ড্রাম গোনেন নিরাপত্তাকর্মী, চা গোনেন তিনি। দুজনের হিসাব মেলালে ভবন চলে, কর্মকর্তাদের সভায় নয়।

নিরাপত্তাকর্মীর খাতায় চারটি ঘর রয়েছে: তারিখ, ড্রাম, কাগজের ড্রাম এবং চা।

একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ভবন ব্যবস্থাপক বাতেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সমিতির পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। ডিজেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সরবরাহ কাগজে উল্লেখ নেই।

গেটের পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছটি কাটার পর ওই জায়গায় নতুন কিছু লাগানো হয়নি।

শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের বয়ান: গেটের হিসাব

পরের প্রতিবেদন →