ফ্রি এসি

রবিবার বাসায় কারেন্ট ছিলো না। জেনারেটর চলে নাই। বাতেন বলল, ডিজেল শেষ। মাসের তেরো তারিখে ডিজেল শেষ হয় কীভাবে, এই প্রশ্ন আমি করি না। আমি সমাধান খুঁজি।
সমাধান: মল। বউরে বললাম, "চলো, একটু ঘুরে আসি।" বউ বলল, "কী কিনবা?" আমি বললাম, "কিছু না। এসি।"
মলে ঢুকলাম। ঠান্ডা। এই ঠান্ডার জন্য কেউ টাকা চায় না। মানুষ দোকানে ঢোকে, জিনিস কেনে, তারপর ঠান্ডা পায়। আমি সরাসরি ঠান্ডা পাই। মাঝখানের ধাপটা বাদ।
তিন তলায় একটা বেঞ্চ। বসলাম। বউ পাশে। ঘণ্টাখানেক পর একজন গার্ড আসলো। বলল, "স্যার, কিছু লাগবে?" আমি বললাম, "না ভাই, ভালো আছি।" গার্ড চইলা গেলো। আধা ঘণ্টা পর আবার আসলো। বলল, "স্যার, আপনারা কি কিছু কিনবেন?" আমি বললাম, "দেখতেছি।" এই মলের সার্ভিস ভালো। গার্ড নিজে আইসা খোঁজ নেয়। দুইবার।
খাবারের জায়গায় একটা দোকান ফ্রি স্যাম্পল দিতেছিলো। চিকেনের টুকরা, টুথপিক দিয়া। আমি একটা নিলাম। বউরে একটা দিলাম। তারপর আরেক দিক দিয়া গিয়া আরেকটা নিলাম। মেয়েটা চিনলো। কিছু বলল না। হাসলো। ভদ্র মেয়ে।
বিকালে গার্ড তৃতীয়বার আসলো। এইবার আরেকজন সাথে। বলল, "স্যার, বেঞ্চটা একটু খালি করা লাগবে।" আমি উঠলাম। সাথে সাথে দুইজন গার্ড আমাদের লিফট পর্যন্ত আগায়ে দিলো। জীবনে কেউ আমারে লিফট পর্যন্ত আগায়ে দেয় নাই।
বাসায় ফিরা দেখি কারেন্ট আসছে। বউ বলল, "কী পাইলা আজকে?" আমি বললাম, "পাঁচ ঘণ্টা এসি, দুইটা চিকেন, আর সম্মান।" বউ বলল, "দুইটা না, তিনটা চিকেন।" বউ সব গোনে।
ফ্ল্যাট ৪বি