হারানো শর্ত
রাতে তানিয়া আপা গেটে আসলো। কইলো, দারোয়ান ভাই, খাতাটা।
আগের খাতাগুলা মান্নান স্যারের আলমারিতে। শেষেরটা আমার বুকপকেটে। এইটা কেউ কিনে নাই।
আপা জিগাইলো, কত?
কইলাম, পড়তে টাকা লাগবে না। ছবি তুললে আলাদা।
পাতাটা খুইলা দিলাম। সেদিন ছেলের বাবা আনোয়ার স্যারের বাসা থেকে নামতেছিলেন। গাড়িতে উঠার আগে ড্রাইভাররে কইলেন, আরেকটা কথা কইয়া আসছি, মেয়েটা রাজি কিনা জিগায়া নিতে। উপরে কেউ শুনছে বইলা মনে হয় না।
উপরে সবাই সিঙ্গারায় ছিলো। আমি গেটে ছিলাম। লেইখা রাখছি।
আপা পাতাটা অনেকক্ষণ পড়লো। তারপর মোবাইল বাইর করলো।
ছবি আলাদা, আপা।
মোবাইল আবার পকেটে গেলো।
পাশের পাড়ার মণ্ডপে ঢাক বাজতেছিলো। গেটের বাতিটা একবার নিভলো, আবার জ্বললো। এই বাতি এমনই, কেউ জানে না কেন।
যাওয়ার সময় আপা কী একটা কইলো। ঢাকের শব্দে শুনি নাই। ধন্যবাদ হইতে পারে।
যে শর্তে টাকা ছিলো, সবার মনে আছে। যেইটায় টাকা নাই, ওইটা গেটে পইড়া ছিলো।
খাতায় লিখলাম: পাতা দেখানো, কনেরে। টাকা নাই। পাতার কোনাটা ভাঁজ কইরা রাখলাম। আর কেউ আসবে।