জলপাই

সকালে ফোনে খবর আসলো: এই বছর জলপাই কম, যে আগে কিনবে সে পাবে। আমি আপডেটেড। সাথে সাথে ষাটজনরে পাঠাইলাম।
মকবুলরে কারওয়ান বাজার পাঠাইলাম। ও এক বস্তা আনলো, কান্ধে কইরা।
বিকালে দেখি বিল্ডিংয়ের সবাই বস্তা নিয়া ঢুকতেছে। মান্নান, করিম, বাতেন। সবাই কয়, আম্মা, আপনার মেসেজ পাইছি।
মকবুল কইলো, আম্মা, বাজারে জলপাইয়ের পাহাড়। কম না।
আমি কইলাম, কম হইতো। আমরা আগে কিনছি দেইখা বাইচা গেছে।
আচার বানাইলাম। ছাদ এখন খোলা, বয়াম রোদে দিলাম। দেখাদেখি সবাই দিলো। ছাদ ভইরা বয়াম।
শাহেদ কবুতর নিয়া উপরে আসলো। বয়ামগুলার দিকে অনেকক্ষণ তাকায়া থাকলো, তারপর আকাশের দিকে। কিছু বললো না।
রাতে আরেকটা খবর আসলো: ভারী বৃষ্টি আসতেছে। পাঠাইলাম। সবাই দৌড়ায়া গিয়া বয়াম নামাইলো।
আমারটা নামাইতে ভুইলা গেছি। খবরটা পাঠাইতে পাঠাইতে।
সকালের খবরটা কে পাঠাইছিলো, পরে খুঁজলাম। আমার নিজের নাম্বার থেকে। গত বছরের।
বয়ামে এখন পানি। রোকসানা দেইখা কইলো, আম্মা, এইটা তো জলপাইয়ের ডাল।
ছবি তুইলা পাঠাইলাম। রেসিপি হিসাবে।