দরজার বাইরে

আজকে আমার বিয়ার আলাপ। আনোয়ার আঙ্কেলের ড্রইংরুমে। বাবা আছে, আঙ্কেল আছে, ছেলের বাবা আছে। আমি নাই।
আঙ্কেল বলছেন, এইসব আলাপে মেয়েদের থাকার দরকার নাই। মেয়েরা থাকলে আলাপ আবেগী হইয়া যায়।
আমি চুপ থাকি নাই। দরজার বাইরে সিঁড়িতে বইসা লাইভে গেলাম: আমার বিয়ার আলাপ চলতেছে, আমারে ছাড়া।
জীবনে কোনো পোস্টে এত ভিউ পাই নাই। একজন লিখলো, আপু, আপনি সাহসী।
বুয়া ট্রে নিয়া বাইর হইলো। কানে কানে বললো ছেলের বেতন কত। লাইভে বইলা দিলাম। কমেন্টে সবাই লিখলো, আপু, কম হইয়া যায়।
সিঁড়ির বাতিটা একবার জ্বলে, একবার নিভে। কেউ ঠিক করে না।
একটু পর আঙ্কেল দরজা খুললেন। বললেন, মা, ভিতরে আসো, তোমার মতামতটা দরকার।
বললাম, আঙ্কেল, একটু পরে। লাইভটা ভালো যাইতেছে।
উনি আরো কী জানি বললেন। শুনি নাই, তখন একটা হার্ট আসছিলো। তারপর দরজা বন্ধ।
আলাপ শেষ। কী ঠিক হইছে, জানি না। বুয়া বলছে, জানতে হইলে একশো টাকা।
দিবো কিনা, এইটা নিয়া লাইভে একটা পোল দিছি।