দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৯ · কলাম

চায়ের হিসাব

ছবি: নিজস্ব সূত্র। rahima bua, চায়ের হিসাব প্রসঙ্গে।

সমিতির মিটিংয়ে মানুষ আসে হাতে গোনা কয়জন। মান্নান সাহেবের খাতায় চা লেখা হয় সাতচল্লিশ কাপ।

প্রথম প্রথম ভাবছিলাম ভুল। পরে বুঝলাম, এইটা ভুল না, এইটা সিস্টেম।

বাকি কাপের টাকা কই যায় আমি জানি না, জানতেও চাই না। আমি খালি জানি, খাতায় যত কাপ, তত কাপের চিনি আসে, দুধ আসে, চা-পাতা আসে। চা বানাই কয়েক কাপ। বাকিটা যায় আমার ব্যাগে।

এইটারে চুরি বলা ঠিক না। বড় সাহেবরা ড্রাম সরান, আমি চিনি সরাই। উনারা নেন ভ্যানে, আমি নেই পলিথিনে।

গত সপ্তাহে মান্নান সাহেব জিগাইলেন, বুয়া, চিনি এত তাড়াতাড়ি শেষ হয় কেন?

বললাম, স্যার, সাতচল্লিশ কাপ চা হয়। আপনার খাতায় লেখা আছে।

উনি খাতাটা খুললেন। দেখলেন। খাতাটা বন্ধ করলেন। আর কিছু জিগাইলেন না।

সেইদিন থেইকা আমাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া আছে। উনি আমারে কিছু বলেন না, আমি উনারে কিছু বলি না।

লিফটটা আবার বন্ধ। কেউ জানে না কেন।

সামনের মিটিংয়ের জন্য উনি খাতায় আরো বেশি কাপ লিখছেন। আমি ব্যাগটা একটু বড় আনছি।

রহিমা বুয়া
শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াহাতে গোনা মানুষের মিটিংয়ে সাতচল্লিশ কাপ চা। বাবা, এইটা মিটিং না, বিয়াবাড়ি।
মকবুল হোসেনআমি একাই মিটিংয়ে চার কাপ খাই। হিসাবে ভুল নাই।
দারোয়ানবুয়ার ব্যাগ গেটে আমি দেখি। প্রতি মিটিংয়ের পর একটু একটু মোটা হয়।
← উন্নয়ন তহবিলডিমের দাম →