দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৮ · কলাম

উন্নয়ন তহবিল

ছবি: নিজস্ব সূত্র। আনোয়ার চৌধুরী, উন্নয়ন তহবিল প্রসঙ্গে।

নতুন কমিটির প্রথম সিদ্ধান্ত উন্নয়ন তহবিল। ফ্ল্যাট প্রতি মাসে পাঁচশো টাকা, সার্ভিস চার্জের বাইরে।

সভায় কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো কীসের উন্নয়ন। বললাম, সোলার। ছাদে প্যানেল বসবে, বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক হইয়া যাবে। এরপর ঘরটা চুপ হইয়া গেলো। সোলার শব্দটার একটা ওজন আছে, ভবিষ্যতের শব্দ।

মান্নান কোটেশনের প্রসঙ্গ তুললো। বুঝাইয়া দিলাম, আগে টাকা তারপর কোটেশন, কারণ টাকা ছাড়া কোটেশন চাইলে সরবরাহকারীরা বিষয়টা গুরুত্ব দিয়া নেয় না। ও মাথা নাড়লো এবং সিল দিলো।

তহবিলের তদারকির জন্য একটা কমিটি লাগে। আমি নিজেই থাকলাম, সভাপতি হিসাবে না, সাধারণ সদস্য হিসাবে। কমিটিতে সদস্যসংখ্যা এক।

চার তলার নতুন ভাড়াটিয়া পার্কিংয়ের জন্য মাসে যা দেয় সেইটাও তহবিলে যাবে। তহবিল যত বড় হয় সোলার তত কাছে আসে। এইটা সহজ অংক।

সভার সময় কেউ জানালাটা খুইলা দিছিলো এবং পরে কেউ আর লাগায় নাই। রাতে মশা আসছে।

আরেকটা কাজ করলাম, একটা নতুন ক্যামেরা বসাইলাম, ডিজেলের ড্রামের দিকে। দারোয়ান জিজ্ঞেস করলো ক্যামেরাটা কার দিকে। বললাম, কারো দিকে না, ড্রামের দিকে।

পরদিন সকালে মনিটরে দেখি ড্রাম নাই, ফ্রেমে খালি দেয়াল। নিচে নাইমা দেখি ড্রাম আছে, দুই হাত সরানো। দারোয়ান জানাইলো বৃষ্টিতে ভিজতো, তাই সরাইছে। দায়িত্বশীল ছেলে।

ক্যামেরায় এখন দেয়াল দেখা যায়। দেয়ালে কিছু ঘটে না, কাজেই ওইদিকে আর নজর দেওয়ার দরকার নাই।

তানিয়া জিজ্ঞেস করলো সোলার কবে। বললাম, তহবিল আগে, সূর্য তো পালাইতেছে না।

রাতে মনিটরটা চালু রাখলাম। আটটা পর্দা। সাতটায় মানুষ চলাফেরা করে। একটায় দেয়াল।

আনোয়ার চৌধুরীসভাপতি, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি
ফ্ল্যাট ৭
শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াকোটেশন নাই, কমিটিতে একজন, ক্যামেরায় দেয়াল।
রোকসানামাসে পাঁচশো। মকবুল দিবে, বাজারের টাকা থেইকা।
দারোয়ানস্যার ক্যামেরা ড্রামের দিকে দিছেন। ড্রাম দুই হাত সরছে।
← হটলাইনের আপাচায়ের হিসাব →