উন্নয়ন তহবিল

নতুন কমিটির প্রথম সিদ্ধান্ত: উন্নয়ন তহবিল। ফ্ল্যাট প্রতি পাঁচশো টাকা, প্রতি মাসে। সার্ভিস চার্জের বাইরে।
কেউ জিজ্ঞেস করলো, "কীসের উন্নয়ন?" আমি বললাম, "সোলার। ছাদে সোলার প্যানেল। বিদ্যুৎ বিল অর্ধেক।" সবাই চুপ। সোলার শব্দটা শুনলে মানুষ চুপ হয়। ভবিষ্যতের শব্দ।
মান্নান বলল, "ভাই, সোলারের কোটেশন?" আমি বললাম, "আগে টাকা, তারপর কোটেশন। টাকা ছাড়া কোটেশন চাইলে ওরা সিরিয়াস নেয় না।" মান্নান মাথা নাড়লো। সিল দিলো। সিদ্ধান্ত পাশ।
তহবিলের দেখভালের জন্য একটা তদারকি কমিটি লাগে। আমি নিজেই থাকলাম। সভাপতি হিসাবে না, সদস্য হিসাবে। বিনয়। কমিটিতে সদস্য একজন। আমি।
চার তলার নতুন ভাড়াটিয়া পার্কিংয়ের জন্য মাসে পাঁচশো দেয়। ওইটাও তহবিলে যাবে। তহবিল বড় হইলে সোলার তাড়াতাড়ি হয়। এইটা অংক।
আর একটা কাজ করলাম। অষ্টম ক্যামেরা। ডিজেলের ড্রামের দিকে। দারোয়ান জিজ্ঞেস করলো, "স্যার, এইটা কার দিকে?" আমি বললাম, "কারো দিকে না। ড্রামের দিকে।" দারোয়ান বলল, "জি স্যার।"
পরদিন সকালে মনিটরে দেখি ড্রাম নাই। ফ্রেমে খালি দেয়াল। নিচে গেলাম। ড্রামগুলা আছে, দুই হাত সরানো। দারোয়ান বলল, "স্যার, বৃষ্টিতে ভিজতো, তাই সরাইছি।" দায়িত্বশীল ছেলে।
ক্যামেরায় এখন দেয়াল দেখা যায়। দেয়ালে কিছু হয় না। মানে চুরি বন্ধ। প্রমাণ মনিটরে।
তানিয়া জিজ্ঞেস করলো, "আঙ্কেল, সোলার কবে?" আমি বললাম, "মা, তহবিল আগে। সূর্য তো পালাইতেছে না।"
বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি। তহবিল তার ছাদ।
ফ্ল্যাট ৭