দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · কলাম

বিজয় মিষ্টি

ছবি: নিজস্ব সূত্র। করিম বক্সী, বিজয় মিষ্টি প্রসঙ্গে।

আজকে বিজয় মিষ্টি। আনোয়ার সাহেব সকালে ফোন দিলেন। বললেন, "করিম, মিষ্টিটা তুমি বিলাও। তোমার হাতে দিলে মানুষ বিশ্বাস করে।"

আমি বললাম, "স্যার, কালকে তো আমার ভোটটাই বাতিল হইলো।"

উনি বললেন, "ওইটা কালকের হিসাব।"

মিষ্টি আসলো দুই কেজি। বাতেন গুনলো। বত্রিশ পিস। বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট চৌদ্দটা।

আমি বললাম, "চৌদ্দ দিয়া বত্রিশ ভাগ যায় না।"

বাতেন বলল, "যারা ভোট দিছে দুইটা কইরা, যারা দেয় নাই একটা।"

আমি বললাম, "কে দিছে আর কে দেয় নাই, সেইটা তো গোপন।"

বাতেন বলল, "গোপন। আমার কাছে লিস্ট আছে।"

তিন তলার আপা দরজা খুইলা বললেন, "আমি তো উঠতেই পারি নাই।" আমি একটা দিলাম। উনি বললেন, "একটা কেন?" আমি বললাম, "লিস্ট।"

পাঁচ তলায় মকবুল ভাই দুইটা নিলেন। বললেন, "আমি সিঁড়ি দিয়া সাত তলা উঠছি।" আমি বললাম, "আপনার ফ্ল্যাট তো পাঁচ তলা।" উনি বললেন, "উঠছি তো।"

সাত তলায় গিয়া জিজ্ঞেস করলাম, "স্যার, মিষ্টির টাকাটা কোন খাত থেইকা গেলো?"

আনোয়ার সাহেব বললেন, "আপ্যায়ন খাত। বিজয় তো সবার, খরচও সবার।"

কথাটা মনে ধরলো। আমরা সবাই মিইলা জিতছি, আমরা সবাই মিইলা মিষ্টিটা কিনছি।

সন্ধ্যায় ঠোঙ্গা খালি। আমার জন্য কিছু ছিলো না। আমি কাউরে বললাম না।

আনোয়ার সাহেব পিঠ চাপড়াইয়া বললেন, "করিম, তুমি বিলাইছো। এইটাই তো বড় কাজ।"

কথাটা ঠিক। সারাদিন বত্রিশটা মিষ্টিই তো আমার হাতে আছিলো। যার হাতে থাকে, সবচেয়ে বেশি তো তারই থাকে।

কিছুক্ষণের জন্য হইলেও।

করিম বক্সীআজীবন সদস্য, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি
ফ্ল্যাট ৪বি
শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াব্যালট গোপন, কিন্তু ম্যানেজারের কাছে লিস্ট আছে। আমাদের গণতন্ত্রের ফাইনাল ভার্সন।
রোকসানামিষ্টি সবার টাকায়, বিলায় একজন, খায় বাকিরা। যে বিলায় সে খালি হাতে ফিরে।
শাহেদদরজা খুলতে দেরি হইছিলো। ঠোঙ্গা তখন খালি। আমার ভোটটা গোনা হইছিলো কিনা তাও জানি না।
← বিজয় ও পুনর্মিলনগেটের হিসাব →