দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৮ · কলাম

গেটের হিসাব

ছবি: নিজস্ব সূত্র। দারোয়ান, গেটের হিসাব প্রসঙ্গে।

মাসের এক তারিখে ডিজেল আসে। ট্রাক না, ভ্যান। ভ্যানে ড্রাম।

বাতেন ম্যানেজার কাগজে সই করে। কাগজে লেখা দশ ড্রাম। ভ্যানে থাকে ছয়টা। বাকি চারটা কোথায়, এই প্রশ্ন আমি করি না। প্রশ্ন করা আমার ডিউটির মধ্যে নাই। আমার ডিউটি গেট খোলা আর গেট বন্ধ করা। দুইটাই আমি ঠিকমতো করি।

ভ্যানওয়ালা যাওয়ার সময় আমার হাতে দুইশো টাকা দেয়। বলে, "চা খাইয়েন।" আমি বলি, "জি।" চা আমি খাই না, আমি জমাই। মানুষ যেটা এমনি দেয়, সেটা না নিলে সে মনে কষ্ট পায়। মানুষরে কষ্ট দেওয়া ঠিক না।

বাতেন আমারে বলে, "দারোয়ান, তুমি কিছু দেখো নাই।" আমি বলি, "জি স্যার, দেখি নাই।" এইটা মিথ্যা না। আমি দেখি নাই, আমি গুনছি। দেখা আর গোনা আলাদা জিনিস।

আমার একটা খাতা আছে। ছোট খাতা, পকেটে থাকে। ওইখানে লেখা: তারিখ, ড্রাম, কাগজের ড্রাম, চা। এই খাতা কেউ চায় নাই। কেউ চাইলে আমি দিবো না। যে জিনিস কেউ চায় না, সেই জিনিসের দাম সবচেয়ে বেশি।

মান্নান স্যার নতুন কোষাধ্যক্ষ হইছেন। সিল নিয়া ঘোরেন। আমারে বললেন, "দারোয়ান, এখন থেইকা হিসাব কড়া।" আমি বললাম, "জি স্যার।" পরদিন ডিজেল আসলো। কাগজে দশ, ভ্যানে ছয়। সিল সহ। কড়া হিসাবের সাথে সিল যোগ হইছে, এইটুকু পার্থক্য।

আনোয়ার স্যার সিসিটিভি লাগাইছেন সাতটা। একটাও ডিজেলের ড্রামের দিকে না। ক্যামেরা মানুষের দিকে থাকে, ড্রামের দিকে থাকে না। ড্রাম তো চুরি করে না।

সন্ধ্যায় গেটে বসি। উপরে স্যাররা মিটিং করেন, কার টাকা কোথায় গেলো। আমি জানি কোথায় গেলো। চারটা ড্রামের সমান জায়গায়। আমার খাতায় লেখা আছে। খাতাটা আমি বুকপকেটে রাখি। বুকের কাছে রাখলে জিনিস হারায় না।

দারোয়ানসুখনীড় টাওয়ার
নিচতলা · গেট

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াদারোয়ান ভাইয়ের পকেটের খাতাটাই এই বিল্ডিংয়ের একমাত্র অডিট। বাকি সব সিল।
আব্দুল মান্নানদারোয়ান, খাতা টাতা রাখার দরকার নাই। হিসাব এখন আমার কাছে। সিল সহ।
রহিমা বুয়াড্রাম গোনে দারোয়ান, চা গোনে আমি। দুইজনের হিসাব মিলাইলে বিল্ডিং চলে, স্যারদের মিটিংয়ে না।
← বিজয় ও পুনর্মিলনফ্রি এসি →