দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · কলাম

বিজয় ও পুনর্মিলন

ছবি: নিজস্ব সূত্র। আনোয়ার চৌধুরী, বিজয় ও পুনর্মিলন প্রসঙ্গে।

সাত-ছয়। এক ভোটের ব্যবধান। ব্যবধান বেশি হইলে মানুষ ভাবে কারচুপি হইছে, এক ভোটে জিতলে ভাবে গণতন্ত্র।

সন্ধ্যায় ড্রইংরুমে সবাইরে ডাকলাম। সিঙ্গারা এইবার গরম আনাইছি, কারণ ফলাফল ঘোষণার দিন ঠান্ডা সিঙ্গারা দিলে মানুষ বছরখানেক ওইটাই মনে রাখে। বললাম, এই নির্বাচনে কেউ হারে নাই, বিল্ডিং জিতছে। হাততালি প্রত্যাশার চেয়ে কম হইলো, তবে সেইটা ভিড়ের সমস্যা, বক্তব্যের না।

মান্নানরে সামনে ডাইকা জড়ায়ে ধরলাম এবং ঘোষণা দিলাম, আজ থেইকা ও কোষাধ্যক্ষ। বাতেন একটা কাঠের বাক্সে কইরা সিলটা আনলো। মান্নান সিলটা আলোর দিকে ধইরা অনেকক্ষণ দেখলো, যেভাবে মানুষ প্রথমবার সোনা যাচাই করে।

তখনই মনে হইলো, এই দৃশ্যটার একটা আলোকচিত্র থাকা দরকার। ইতিহাস জিনিসটা নিজে নিজে সংরক্ষিত হয় না।

তানিয়ার ফোনটা সবচেয়ে ভালো, তাই দায়িত্বটা ওরেই দিলাম। প্রথম ছবিতে মান্নান চোখ বন্ধ কইরা ফেললো। দ্বিতীয়টায় বাতেন ফ্রেমে ঢুইকা পড়লো, ওর একটা স্বভাব আছে, যেখানে ক্যামেরা সেখানে ও। তৃতীয়টায় দেখা গেলো আমার হাতটা বাক্সের উপরে, আর ছবিতে হাত কোথায় থাকে সেইটা একটা বিবেচনার বিষয়।

মাঝখানে তানিয়া জিজ্ঞেস করলো ডিজেল বিলের অডিটটা কে করবে। বললাম, মান্নান করবে। তারপর বললাম, হাসো।

এগারোটা তোলার পর সাত নম্বরটা পছন্দ হইলো। দুইজনেই হাসতেছি এবং বাক্সটা ফ্রেমের বাইরে। ওইটা গ্রুপে দিতে বললাম।

লোকজন চইলা যাওয়ার পর মান্নান জিজ্ঞেস করলো, মানুষ কী বলবে। বললাম, ঐক্য বলবে। ও সিলটা পকেটে নিয়া চইলা গেলো, বাক্সটা টেবিলে রাইখা গেলো। আমি ওইটা আলমারিতে তুইলা রাখলাম, কারণ জিনিসপত্র জায়গামতো থাকা উচিত।

নিচে নামার সময় দারোয়ান বলল, চাবি সবসময় একই গোছার থাকে, মানুষ বদলায় কিন্তু তালা বদলায় না। ছেলেটা সম্ভবত গেটের চাবির কথা বলতেছিলো। আনুগত্যের একটা দাম আছে, দুইশো টাকা দিলাম।

সকালে দেখি তানিয়া ওর নিজের পেজে ছবি দিছে, তবে সাত নম্বরটা না। দুইটা পোজের মাঝখানে যেইটা উঠছিলো সেইটা। কেউ হাসতেছে না, মান্নান সিলটার দিকে তাকায়া আছে, আর আমার হাতটা বাক্সের উপরে। নিচে ক্যাপশন দিছে, সুখনীড় টাওয়ার, ২০২৬।

ছবিটা আসলেই ভালো হইছে। সাজানো লাগে না। আমি ওইটাও শেয়ার দিলাম।

আনোয়ার চৌধুরীসভাপতি, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি
ফ্ল্যাট ৭
শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াসাত নম্বরটায় সবাই হাসতেছিলো। আমি আটটা দিছি।
রোকসানাএগারোবার তুলতে হইছে একটা স্বাভাবিক ছবির জন্য। স্বাভাবিক জিনিস এত পরিশ্রম চায় না।
দারোয়ানস্যার বাক্সটা আলমারিতে রাখছেন। সিলটা গেছে দুই তলায়। দুইটা এখন দুই জায়গায়।
← আমি আপডেটেডবিজয় মিষ্টি →