দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · কলাম

আমি আপডেটেড

ছবি: নিজস্ব সূত্র। আম্মা, আমি আপডেটেড প্রসঙ্গে।

তানিয়া একটা ক্লাস নিলো। পার্কিংয়ে। নাম দিছে "ডিজিটাল সাক্ষরতা"।

মকবুলের চেয়ার দুইটা। একটায় আমি বসছি। আরেকটায় তিন তলার ভাবী।

তানিয়া বলল, "আন্টি-আঙ্কেলরা, ফরওয়ার্ড করার আগে যাচাই করবেন।"

আমি বললাম, "মা, আমি আপডেটেড।"

ও কিছু বলল না। বোর্ডে লেখা শুরু করলো।

বোর্ডে একটা ইংরেজি শব্দ লিখছিলো। মনে নাই। পরে জিজ্ঞেস করবো ভাবছিলাম। করা হয় নাই।

তারপর হাত তুললাম। বললাম, "একটা জিনিস দেখাই।"

ফোন বাইর কইরা দেখাইলাম, একসাথে সব কন্টাক্টে কেমনে পাঠায়। সিলেক্ট অল চাপলে হয়। ভাবী লিখা নিলেন।

তানিয়া বলল, "আম্মা, ওইটা না।"

"তুমি যাচাই শিখাও। আমি স্পিড শিখাই।"

আজকের ফরওয়ার্ডটা পড়লাম সবাইরে। মোবাইলের নীল আলো নাকি চোখ থেইকা দোয়া কাইড়া নেয়। দশজনরে পাঠাইতে হয়।

ভাবী জিজ্ঞেস করলো, "আম্মা, এইটা যাচাই করছেন?"

"নিচেই তো লেখা আছে, না পাঠাইলে ক্ষতি।"

ভাবী আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না।

পার্কিংয়ে একটা বিড়াল ঘুরতেছিলো সারাক্ষণ। কারো বিড়াল না। সবাই খাওয়ায়।

শেষে তানিয়া একটা রিল বানাইলো। আমারে সামনে রাখলো। বলল, "ইন্টারজেনারেশনাল ডায়ালগ।"

আমি বললাম, "মানে?"

"মানে আপনি আর আমি কথা বলতেছি।"

"তাইলে বাংলায় বল।"

রিলটা ও কমিটির পেজে দিলো। আমি ষাটজনরে পাঠাইলাম। তানিয়ারেও পাঠাইলাম, ও তো কন্টাক্টেই আছে।

রাতে মকবুল জিজ্ঞেস করলো আমি নাকি ক্লাস নিছি।

বললাম, "না। আমি ক্লাসে গেছিলাম।"

আম্মাখাঁটি সত্যভাষী
ফ্ল্যাট ৫এ
শেয়ার করুনফেসবুকএক্সটেলিগ্রাম

পাঠকের মন্তব্য

অশ্লীল ভাষা বা লিংক থাকলে মন্তব্যটি সম্পাদকের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করবে।

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াক্লাসে একজন শিখছে। আমি।
মকবুল হোসেনআম্মা ফরওয়ার্ড করে, আমি পোস্ট করি। আমাদের ভাগাভাগি আছে।
শাহেদআম্মা আমারেও পাঠাইছেন। কেউ আমারে কিছু পাঠায় না সাধারণত।
← ভোটকেন্দ্র সভাপতির ড্রইংরুমবিজয় ও পুনর্মিলন →