ভোটকেন্দ্র সভাপতির ড্রইংরুম

আজকে ভোট। ভোটকেন্দ্র সাত তলায়, আনোয়ার সাহেবের ড্রইংরুমে। উনি বললেন, "আমার ঘরটাই সবচেয়ে বড়, নিরপেক্ষ জায়গা।" কথাটা ঠিক। উনার ঘরের চেয়ে বড় ঘর বিল্ডিংয়ে নাই।
সকালে লিফট নষ্ট। রমজান বলল, "স্যার, কাল রাত থেইকা।" আমি সিঁড়ি দিয়া উঠলাম। চার তলা থেইকা সাত তলা, বেশি না।
তিন তলার আপা দুই তলা উইঠা বসে পড়লেন। বললেন, "করিম ভাই, আমার ভোটটা আপনি দিয়া আসেন।" আমি বললাম, "আপা, এইটা তো গোপন ব্যালট।" আপা নাইমা গেলেন। সম্ভবত পরে আসবেন।
উপরে গিয়া দেখি ব্যালট: একটা কাগজ, দুইটা নাম। আনোয়ার চৌধুরী। আব্দুল মান্নান। টিক দিতে হবে।
আনোয়ার সাহেব আমার কাঁধে হাত রাখলেন। বললেন, "করিম, তুমি বিল্ডিংয়ের বিবেক। তোমার ভোটটা আমার জন্য।" মান্নান ভাই কানে কানে বললেন, "করিম ভাই, আপনি ছাড়া আমার কেউ নাই।"
দুইজনই আমারে চাইলো। এই সম্মান আমি জীবনে পাই নাই।
আমি কাউরে না করতে পারলাম না। দুইটা নামেই টিক দিলাম। মনটা হালকা লাগলো।
বাতেন গণনা করলো। সাত আর ছয়। একটা বাতিল। বাতেন বলল, "একটা ব্যালটে দুই টিক।" সবাই আমার দিকে তাকাইলো। আমি নিচের দিকে তাকাইলাম। বিনয়ের ভঙ্গি।
আনোয়ার সাহেব জিতলেন। চা আসলো। ঠান্ডা সিঙ্গারা। আমি দুইটা খাইলাম। যারা সিঁড়ি দিয়া উঠে নাই, তাদের ভাগেরটা তো কেউ খাইবো।
নামার সময় দেখি লিফট চলতেছে। রমজান বলল, "ঠিক হইছে স্যার।" আমি বললাম, "ভালো।" জিনিসপত্র ঠিক হয় সময়মতো।
বাসায় আসছি। বউ জিজ্ঞেস করলো, "কারে দিলা?" আমি বললাম, "দুইজনরেই।" বউ বলল, "তার মানে কাউরে না।" আমি বললাম, "না, তার মানে দুইজনরেই।"
আমার ভোটটা গোনা হয় নাই। কিন্তু দুইজনই আমারে চাইছিলো। গোনার চেয়ে চাওয়াটা বড়।
ফ্ল্যাট ৪বি