বিজয় মিষ্টি বিতরণে বত্রিশ পিসের হিসাব মেলেনি, ব্যয় দেখানো হয়েছে আপ্যায়ন খাতে

রাজধানীর সুখনীড় টাওয়ারে ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতির নির্বাচনের পরদিন বিজয় উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা মিষ্টির সংখ্যার সঙ্গে ভবনের ফ্ল্যাট সংখ্যার হিসাব মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভবনের বিভিন্ন তলায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় চতুর্থ তলার বাসিন্দা করিম বক্সীকে (৫৫)। আগের দিন অনুষ্ঠিত ভোটে তার ব্যালটটি বাতিল হয়েছিল।
ভবনের নিরাপত্তাকর্মী (৩৮) বলেন, সকাল ১০টার দিকে দুই কেজি মিষ্টি গেটে পৌঁছায়। ভবন ব্যবস্থাপক বাতেন (৪০) তা গুনে দেখেন। মোট বত্রিশ পিস। ভবনে ফ্ল্যাট রয়েছে চৌদ্দটি।
বণ্টনের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে ভবন ব্যবস্থাপক জানান, যারা ভোট দিয়েছেন তারা দুটি করে এবং যারা দেননি তারা একটি করে পাবেন।
ব্যালট গোপন থাকার পরও কে ভোট দিয়েছেন তা কীভাবে নির্ধারণ করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি গোপন, তার কাছে তালিকা রয়েছে।
তৃতীয় তলার এক বাসিন্দা একটি মিষ্টি পান। ভোটের দিন লিফট বন্ধ থাকায় তিনি কেন্দ্রে যেতে পারেননি বলে জানান।
পঞ্চম তলার বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৪৮) দুটি মিষ্টি নেন। ভোট দিতে তিনি সিঁড়ি বেয়ে সপ্তম তলায় উঠেছিলেন বলে জানান। তার ফ্ল্যাট পঞ্চম তলায়।
মিষ্টির ব্যয় কোন খাত থেকে নির্বাহ করা হয়েছে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী (৬২) বলেন, ব্যয় আপ্যায়ন খাতে দেখানো হয়েছে, বিজয় সবার, খরচও সবার।
ওই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বা অনুমোদনের তারিখ সম্পর্কে সমিতি কিছু জানায়নি। মিষ্টির দোকানের রসিদ সমিতির কাছে জমা পড়েনি।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিতরণ শেষ হয়। ঠোঙ্গায় তখন কিছু ছিল না।
যিনি সারা দিন মিষ্টি বিতরণ করেছেন, তিনি নিজে কোনো মিষ্টি পাননি। এ বিষয়ে তিনি কারও কাছে অভিযোগ করেননি।
একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ভবন ব্যবস্থাপক বাতেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার কাছে থাকা তালিকাটিও দেখতে চাওয়া হয়নি।