দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · কলাম

রাইডারের রেটিং

ছবি: নিজস্ব সূত্র। মকবুল হোসেন, রাইডারের রেটিং প্রসঙ্গে।

শুক্রবার রাতে বৃষ্টি। আমি অ্যাপে কাচ্চি অর্ডার দিলাম। অ্যাপ বলল পঁয়ত্রিশ মিনিট।

আসলো চুয়াল্লিশ মিনিটে। নয় মিনিট লেট। ছেলেটা ভিজা। প্যাকেটটা শুকনা, ও নিজে ভিজা। বলল, "স্যার, রাস্তায় পানি।"

আমি বললাম, "রাস্তায় পানি তো আমারও জানা আছে। সময়ের মূল্য বোঝো? আমি অফিসে নয় মিনিট লেট করলে চাকরি থাকে?"

ছেলেটা বলল, "সরি স্যার।"

আমি খাবার নিলাম। টিপস দিলাম না। নীতির ব্যাপার। লেট করলে টিপস নাই, এইটা শিক্ষা।

অ্যাপে রেটিং চাইলো। আমি এক তারা দিলাম। লিখলাম, "Unprofessional. Late. Wet." তিনটা শব্দই সত্য।

কাচ্চিটা ভালো ছিলো। এইটা আলাদা কথা।

রাত দুইটায় ঘুম আসতেছিলো না। বারান্দায় গেলাম। বৃষ্টি তখনো পড়তেছে। একটা ছবি তুললাম। পোস্ট দিলাম: "ধৈর্য ঈমানের অর্ধেক। বৃষ্টির রাতে আল্লাহর রহমত মনে করি।" সকালে উঠে দেখি চল্লিশটা লাইক। দুইটা "মাশাআল্লাহ ভাই"।

নাস্তার টেবিলে আম্মা বলল, "রাতে কে আসছিলো?"

আমি বললাম, "রাইডার।"

আম্মা বলল, "ছেলেটা ভিজা ছিলো?"

আমি বললাম, "রাস্তায় পানি ছিলো আম্মা।"

আম্মা আর কিছু বলল না। রোকসানা চা দিলো। কিছু বলল না। এই বাড়িতে কেউ কিছু বলে না, সবাই বোঝে। আমি ছাড়া, আমি বলি।

অ্যাপ আবার নোটিফিকেশন দিলো: "আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?" আমি ভাবলাম, আমার অভিজ্ঞতা? আমি তো ঠিকই ছিলাম। মনে মনে নিজেরে পাঁচ তারা দিলাম।

জুম্মায় গেলাম। সামনের কাতারে একটা ছেলে সালাম দিলো। ওই রাইডার। শুকনা অবস্থায় চিনতে একটু সময় লাগলো।

আমি ঠিক করলাম, ওরে মাফ কইরা দিবো। বড় মন লাগে এইসবে।

মকবুল হোসেনল্যান্ড ওনার, সুখনীড় টাওয়ার মালিক সমিতি
ফ্ল্যাট ৫এ

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

রোকসানারাইডার নয় মিনিট লেট। উনি বিশ বছর।
আম্মাআমি আপডেটেড, রেটিং বুঝি। ছেলেটারে এক তারা, আকাশরে চল্লিশ লাইক, নিজেরে পাঁচ তারা। হিসাব মিলছে।
তানিয়ারাত ২টায় ধৈর্যের পোস্ট, ৯টায় এক তারা। কনটেন্ট ক্যালেন্ডার একদম ঠিক আছে।
← ভোটের আগের রাতভোটকেন্দ্র সভাপতির ড্রইংরুম →