দৈনিক সুখনীড় সমাচার

সত্য প্রকাশে আপোষহীন (কমিটির অনুমোদনক্রমে)

সংখ্যা ০৭ · কলাম

ভোটের আগের রাত

ছবি: নিজস্ব সূত্র। আব্দুল মান্নান, ভোটের আগের রাত প্রসঙ্গে।

ভোট কালকে। আজকে সারাদিন হিসাব মিলাইলাম।

চৌদ্দটা ফ্ল্যাট, চৌদ্দটা ভোট। আমার দিকে ছয়টা পাকা। আনোয়ার সাহেবের দিকে ছয়টা। বাকি দুইটা: শাহেদ আর করিম ভাই। শাহেদ ভোট দিতে আসতে পারলেই হয়। করিম ভাই দুই পক্ষরেই "জি ভাই" বলছে। ওইটা ভোট না, ওইটা বিনয়।

হিসাবটা লিখলাম ডিজেল বিলের খাতায়। পুরানা খাতা, পিছনের পাতা খালি ছিলো। খাতাটা আমার কাছেই থাকে, এইটা সুবিধা।

রাত এগারোটায় বাতেন আসলো। হাতে একটা ঠোঙ্গা। বলল, "স্যার, উপরের স্যার পাঠাইছে। জিলাপি।"

আমি বললাম, "জিলাপি কেন?"

বাতেন বলল, "স্যার বলছে, ঐক্যের জন্য। উনি বলছে, আপনি যদি কালকে সইরা দাঁড়ান, বিল্ডিংয়ের স্বার্থে, তাইলে কোষাধ্যক্ষের পদটা আপনার। সিল সহ।"

আমি জিলাপি খাইলাম একটা। ভালো জিলাপি। আমি বললাম, "বাতেন, তোমার হিসাবে উনার দিকে কয়টা?"

বাতেন বলল, "আটটা স্যার।"

আমি বললাম, "আর আমার দিকে?"

বাতেন বলল, "আপনার দিকেও আটটা স্যার।"

আমি খাতায় যোগ করলাম। আট আর আট ষোল। ফ্ল্যাট চৌদ্দটা। মানে বাতেন দুই পক্ষরেই একই রিপোর্ট দিছে। এইটা খারাপ না। এইটার মানে বাতেন নিরপেক্ষ।

আমি বাতেনরে কিছু বললাম না। ম্যানেজ হয়ে যাবে। এইটা সাইন্স।

বাতেন যাওয়ার পর আমি একটা কাজ করলাম। নতুন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুললাম: "সুখনীড় Family (Official) Final 3"। খালি আমার ছয়জন। আর করিম ভাই। শাহেদরে অ্যাড দিতে গিয়া দেখি ওর নাম্বার সেভ নাই। থাক।

গ্রুপে লিখলাম, "কালকে সকাল দশটা। সবাই একসাথে উঠবো।"

জিলাপির ঠোঙ্গাটা রাইখা দিলাম। খালি ঠোঙ্গা, কিন্তু উপরে লেখা "ঐক্য"। প্রমাণ হিসাবে।

লোকে বলে ভোটের আগের রাতে টেনশনে ঘুম হয় না। আমার হয়। হিসাব যার হাতে, ঘুম তার।

আব্দুল মান্নানসাধারণ সম্পাদক, সুখনীড় ফ্ল্যাট ওনার্স কল্যাণ সমিতি
ফ্ল্যাট ২বি

চিঠিপত্র · পাঠকের মতামত

তানিয়াবাবা সারারাত অংক মিলাইলো, আর অংকটা বাতেন ভাই আগেই দুই জায়গায় মিলায়ে রাখছিলো।
রমজানস্যাররা রাত জাইগা হিসাব করে কে জিতবে। আমি গেটে বইসা আগেই জানি। জিলাপি কোন দিকে গেছে, দেখছি।
আনোয়ার চৌধুরীগণতন্ত্রে হিসাব লাগে না, বিশ্বাস লাগে। বিশ্বাসই সমাজের ভিত্তি। জিলাপিটা কেমন ছিলো?
রাইডারের রেটিং →